1. mizanurrahmanbadol2@gmail.com : Chaloman Shomoy : Chaloman Shomoy
  2. arasif1989@gmail.com : jony :
  3. mashiur2k@gmail.com : mashiur :
  4. trustit24@gmail.com : Admin panel : Admin panel
  5. chalomanshomoy@gmail.com : Polash News : Polash News
  6. info@chalomanshomoy.com : suvash :
ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে রাজনীতি থেকে আউট কাদের মির্জা - চলমান সময়
May 9, 2021, 1:29 am
শিরোনাম:
৭১-এ পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানিরা যে কাজ করেছে, মির্জাও তা করছে: বাদল আর কোন ছাড় দেবোনা, কাদের মির্জাকে প্রতিহত করা হবে: মঞ্জু বাঙালির চেতনা-মননের প্রধান প্রতিভূ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : রাষ্ট্রপতি সুনামগঞ্জে ৬ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নারীসহ গ্রেফতার-৬ হালদায় অভিযান, এক হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ আবর্জনায়পূর্ণ চৌমুহনী শহরের খালগুলো লাউড়গড় সীমান্তে অবৈধ বালি-পাথরসহ ৩টি নৌকা ও ২টি ট্রাক আটক কোম্পানীগঞ্জে ফের বাস ভাংচুর করেছে মির্জা অনুসারীরা দল থেকে পদত্যাগের পর আ’লীগ নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের উপর মির্জা অনুসারীদের হামলা, আহত-৪

ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে রাজনীতি থেকে আউট কাদের মির্জা

প্রশান্ত সুভাষ চন্দ, চীফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১
  • 522 Time View

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়খালী-৫ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। সেময় ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী পরিষদের যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি দেশব্যাপী কাজ করতে গিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত আসতেননা। তাঁর হয়ে কোম্পানীগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও দলীয় কর্মকান্ড চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন নিজ ভাই আব্দুল কাদের মির্জাকে। নিজ ভাই দায়িত্ব পালন করছে বলে ওবায়দুল কাদেরও নির্ভার থাকতেন।

এ সুযোগে আব্দুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জে এক অলিখিত বাহিনী গড়ে তুলেন। শুরু করেন সাধারণ মানুষ, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের উপর নির্যাতন। এরই মাঝে ১৯৯৮সালে তিনি প্রতিপক্ষ কাউকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দিয়ে বিনা ভোটে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওবায়দুল কাদেরের অর্পিত দায়িত্বকে ক্ষমতায় রূপান্তরিত করে কৌশলে কোম্পানীগঞ্জে নিজেকে ওবায়দুল কদেরের প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করেন আব্দুল কাদের মির্জা।

১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে অভাবনীয় উন্নয়ন করার পরও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একমাত্র আব্দুল কাদের মির্জার অপকর্ম ও জুলুম নির্যাতনের কারনে কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা ওবায়দুল কাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের কাছে।

এরপর নানান চড়াই উৎরাইয়ের পর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জোট সরকারের শরীক দলগুলোর অত্যাচার নির্যাতনের ফল স্বরূপ নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ পরাজিত হন এবং ওবায়দুল কাদের জয়লাভ করেন। কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৫ আসনে ওবায়দুল কাদের জয়লাভ করলেও  কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদের ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ এর চাইতে অনেক কম ভোট পান। কারন কোম্পানীগঞ্জে ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত আব্দুল কাদের মির্জার অত্যাচার নির্যাতনের কথা সাধারণ ভোটারটা স্মরনে রেখেছিল।

২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এবং ওবায়দুল কাদের এ আসনে সাংসদ। এরই মাঝে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের। নিজ ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আব্দুল কাদের মির্জা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ২০০৮-২০২০-এ দীর্ঘ সময় নিজ ভাই ওবায়দুল কাদেরের দেয়া দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল কাদের মির্জা।

এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেন মূর্তিমান এক আতঙ্কে। রাজনীতির মাঠে বিরোধী দলের অনুপস্থিতির কারনে তিনি শুরু করেন নিজ দলের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার নির্যাতন। চালু করেন বহিষ্কার সংস্কৃতি। হয়ে উঠেন স্বঘোষিত এক নায়ক। চলতি বছর জানুয়ারী মাসে পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার দিন থেকে আব্দুল কাদের মির্জা নিজেকে প্রকাশিত করার প্রথম অপকৌশল হাতে নেন। সেদিন তিনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে নোয়াখালী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী ও সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতাসহ অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিষোধাগার করেন। তিনি বলেন, “সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আমাদের অনেক এমপি দজ্জা টোয়াই হাইতো নয়”।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে, আব্দুল কাদের মির্জার এমন বক্তব্যের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল, তিনি আগামীতে এ আসনে এমপি হতে চান। সেজন্য নিজেকে ক্ষমতাবান ও জনপ্রিয় প্রমান করার জন্য এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

নিজেকে কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরর চাইতেও জনপ্রিয় প্রমান করতে গিয়ে তার কিছু অনুসারী নিয়ে শুরু করেন ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলন। দলীয় নেতাকর্মীদের বাধ্য করেন তার কথা মতো চলতে। তিনি স্থানীয়ভাবে ওবায়দুল কাদেরের কোন কথা না শোনার জন্যও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেও ওবায়দুল কাদেরের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন।

সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে ওবায়দুল কাদের দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এ গুঞ্জন উঠার সাথে সাথে ওবায়দুল কাদেরের নিজ আসন নোয়াখালী-৫ আসন থেকে আব্দুল কাদের মির্জা নির্বাচন করার কথা চিন্তা করতে থাকেন। নির্বাচন করতে গেলে আব্দুল কাদের মির্জা তার প্রধান প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে মনে করেছিলেন ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মীনি ইসরাতুন্নেসা কাদেরকে। যার জন্য তিনি ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনার পাশাপাশি তার সহধর্মীনিরও কট্টর সমালোচনা করতে থাকেন।

কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে, ওবায়দুল কাদের শারিরীকভাবে অসুস্থ্য। পাশাপাশি তিনি যদি ভবিষ্যতে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হন তাহলে নোয়াখালী-৫ আসন শূন্য হবে। তখন আব্দুল কাদের মির্জা এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের পর এ আসনে তার সহধর্মীনি প্রার্থী হতে পারেন এ আশংকা থেকে আব্দুল কাদের মির্জা ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ করাটাই কাদের মির্জার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন কোম্পানীগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এখনো ওবায়দুল কাদেরের ভক্ত। যে কারনে আব্দুল কাদের মির্জা কর্তৃক ওবায়দুল কাদেরকে চ্যালেঞ্জ করায় দলীয় নেতাকর্মীরা ওবায়দুল কাদেরের পক্ষ হয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে বসে আব্দুল কাদের মির্জাকে।

শুরু হয় মির্জার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলন। যে আন্দোলনে একে একে যোগ দেয় উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগের অধিকাংশ নেতাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতাকর্মী শূণ্য হয়ে পড়েন আব্দুল কাদের মির্জা। এক পর্যায়ে নিরূপায় হয়ে দল থেকে নিজেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আব্দুল কাদের মির্জা। আউট হয়ে যান স্থানীয় রাজনীতি থেকে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *