1. mizanurrahmanbadol2@gmail.com : Chaloman Shomoy : Chaloman Shomoy
  2. arasif1989@gmail.com : jony :
  3. mashiur2k@gmail.com : mashiur :
  4. trustit24@gmail.com : Admin panel : Admin panel
  5. chalomanshomoy@gmail.com : Polash News : Polash News
  6. info@chalomanshomoy.com : suvash :
দেশে দুর্ঘটনায় অঙ্গ হারিয়ে ভিক্ষুক, কেউ পাননি আর্থিক সুবিধা - চলমান সময়
August 2, 2021, 3:35 pm

দেশে দুর্ঘটনায় অঙ্গ হারিয়ে ভিক্ষুক, কেউ পাননি আর্থিক সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৫, ২০২১
  • 32 Time View

দেশে দুর্ঘটনাজনিত কারণে পঙ্গু হয়ে যারা ভিক্ষাবৃত্তি করছেন তাদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছেন এবং ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাছ থেকে পড়াসহ অন্যান্য কারণে পঙ্গু হয়েছেন।

বুধবার (১৪ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সংগঠনটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে জরিপ চালায়। পরে ৬৩ জন পঙ্গু ভিক্ষুকের ওপর সাক্ষাৎকারভিত্তিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

জরিপে বলা হয়, পঙ্গু ভিক্ষুকদের ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরযানের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন, ভটভটি, চান্দের গাড়ি, টমটম, অটোরিকশা, অটোভ্যান, প্যাডেল রিকশা, ঠ্যালাগাড়ি ইত্যাদি) চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। আর ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ মোটরযানের যাত্রী হিসেবে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছেন এবং ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ পথচারী হিসেবে রাস্তায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছেন।

আরও জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর মোটরযান মালিকদের নিকট থেকে চিকিৎসার জন্য সামান্য সহযোগিতা পেয়েছেন ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভুক্তভোগী। তবে কেউই মোটরযানের তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকিবীমার মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন সবাই।

আর দুর্ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ২৫ শতাংশ ভুক্তভোগী, অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৫৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শুধু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী। চিকিৎসার কোনো এক পর্যায়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী।

জরিপে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় ৫১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৩-২৫ বছর। ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশের বয়স ছিল ২৬-৪০ বছর।

দুর্ঘটনার পর্বে ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশের পেশা ছিল মোটরযানের চালক-শ্রমিক। আর ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশের পেশা ছিল স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের চালক-শ্রমিক।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য পারিবারিক সম্পত্তি (জমি ও গৃহপালিত পশু) বিক্রি করেছেন ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভুক্তভোগী পরিবার। বিক্রি করার মতো তেমন সম্পত্তি ছিল না ৩৪ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিবারের।

সংগঠনটি বলছে, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মোটরযানে তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকিবীমা বাধ্যতামূলক আছে এবং এই বীমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে ‌‘মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স অ্যাক্ট-১৯৮৩’-এ মোটরযানে তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকিবীমা বাধ্যতামূলক ছিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত ছিল ক্লেইম ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু দুঃখজনক যে, উক্ত আইনের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এমন নজির দেখা যায়নি।

আরও বলা হয়, বীমা কোম্পানিগুলো নিয়মিত প্রিমিয়াম নিলেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারও কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত গরিব মানুষ চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পথের ভিখারি হয়েছেন।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, পূর্বের আইনে কেউ ক্ষতিপূরণ পায়নি এই অজুহাতে সরকার ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’-এ মোটরযানের তৃতীয় পক্ষীয় ঝুঁকিবীমা বিলোপ করে একটি ‘ট্রাস্ট ফান্ড’-এর বিধান রেখেছে, যার সাংগঠনিক কাঠামো এবং তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া খুবই দুরূহ হবে বলে আমাদের আশঙ্কা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো- ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ প্রণয়নের এতো দিন অতিবাহিত হলেও উক্ত ট্রাস্ট ফান্ড গঠনই হয়নি। অথচ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত-নিহত হচ্ছেন। পঙ্গু ভিক্ষুকদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবার কিংবা দেখার কেউ নেই।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *