নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ধর্ষণ মামলা ও হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত আসামি দুই সহোদর বিএনপি নেতা। নোয়াখালী-৫ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের ছত্রছায়ায় ও নির্দেশে তারা স্থানীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবেদসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
দুই সহোদর হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন তোতার ছেলে ইব্রাহিম তোতা ও ইসমাইল তোতা। তারা দুইজনই আবেদ অনুসারি।
১০ নভেম্বর (সোমবার) দুপুরে তারা চরএলাহি ইউনিয়নে নোয়াখালী-৫ আসনের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখতে দেখা গেছে।
তাদের এমন কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থানীয় ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু বলেন, ‘বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের নির্দেশে তারা এই বিশৃঙ্খলা করছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। আমি আবেদসহ তার এসব অনুসারিদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সেলিম বলেন,”দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার দল করার যোগ্যতা থাকেনা। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি আশা করছি।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বলেন,”আবেদের নির্দেশে ও ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী ইব্রাহিম তোতা ও ইসমাইল তোতা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আবেদসহ যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে বজলুল করিম চৌধুরি আবেদের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, দুই সহোদরের মধ্যে বড় ভাই ইব্রাহিম তোতা ধর্ষণ মামলার আসামি। গত বছর ২১ অক্টোবর রাতে তার নেতৃত্বে গণ ধর্ষণের শিকার হন স্থানীয় এক নারী (৩৫) ও তাঁর মেয়ে (১৭)। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
অন্যদিকে তারই ছোট ভাই ইসমাইল তোতা একটি হত্যা মামলার আসামি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কিশোর বিজয় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি তিনি।
চলতি বছর ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কল্লা মার্কেট নামক স্থানে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহনাজ আক্তার সূবর্ণা বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ১২জনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চলমান সময়/১২নভেম্বর/পিএস



